পোবনিউজ২৪ ঢাকা ১৮ জুন ২০২৬ : সীমান্ত হত্যা, অনুপ্রবেশ ও আন্তঃসীমান্ত বিভিন্ন অপরাধ দমনের লক্ষ্যে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন বাংলাদেশ সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। বাংলাদেশের দিক থেকে এখন পর্যন্ত সীমান্তে কোনো কাঁটাতারের বেড়া নেই।
বুধবার সংসদ অধিবেশনে টেবিলে উত্থাপিত প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, মিয়ানমার সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে এবং ভারত সীমান্তের স্পর্শকাতর স্থানে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণের কার্যক্রম বিবেচনাধীন রয়েছে।
কিন্তু সীমান্তে এই কাঁটাতারের বেড়া কীভাবে দেওয়া হবে, কোনো নির্দিষ্ট নিয়ম কি মানতে হবে- কিংবা প্রতিবেশী দেশের সাথে কি আলোচনা করতে হবে?
আন্তর্জাতিকভাবে সীমান্তে স্থাপনা নির্মাণের বিষয়ে সার্বজনীন কোনো আইন নেই। নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে যেকোনো সার্বভৌম দেশের নিজ সীমান্তে স্থাপনা নির্মাণের স্বাধীনতা রয়েছে।
এছাড়া কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রতিবেশী দেশের সাথে দ্বিপাক্ষিক চুক্তির মাধ্যমেও সীমান্তে স্থাপনা নির্মাণের বিষয়ে সমঝোতা করা হয়।
যেমন, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ১৯৭৪ সালে স্বাক্ষরিত চুক্তি অনুযায়ী, শুন্যরেখা থেকে দেড়শ গজের মধ্যে কোনো পক্ষই প্রতিরক্ষা সামর্থ্য থাকা স্থাপনা গড়তে পারবে না।
এছাড়া উন্নয়নমূলক স্থাপনা তৈরি করতে হলেও অপর পক্ষের কাছ থেকে সম্মতি নিতে হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছিল।
কিন্তু নিরাপত্তার স্বার্থে নিজ সীমান্তে বেড়া দেয়া রাষ্ট্রের এখতিয়ারের মধ্যে পড়ে বলে জানান অধ্যাপক সাহাব এনাম খান। সেক্ষেত্রে প্রতিবেশী দেশের দিক থেকে কোনো ধরনের বাধা দেওয়ার সুযোগ থাকে না বলে মন্তব্য করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের এই শিক্ষক।
তবে যুদ্ধকালীন অবস্থার মতো মানবিক সংকটের সময় শারীরিক স্থাপনা নির্মাণ না করার ‘নর্ম এন্ড প্র্যাকটিস’ রয়েছে।
বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে ভারতের দিক থেকে ইতোমধ্যেই কাঁটাতারের বেড়া থাকায় বাংলাদেশের এই উদ্যোগেও কোনো নিয়ম ভাঙ্গা হচ্ছে না বলে মনে করছেন অধ্যাপক খান।
কিন্তু ভারত থেকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে পুশ-ইনের ঘটনায় জাতীয় নিরাপত্তা ইস্যু তৈরি হয়েছে। যার কারণে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার সিদ্ধান্তকে যৌক্তিক এবং নৈতিক বলেই মনে করছেন তিনি।
“এতে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন করা না হলেও তা আন্তর্জাতিক চর্চার বিপরীতমুখী অবস্থান। ফলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অবস্থান জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক আইনের মধ্যে থেকেই করা সম্ভব”, বলেন অধ্যাপক সাহাব এনাম খান।
গত ২৬শে এপ্রিল বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে দ্বিতীয় পর্যায়ের সীমান্ত সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের অনুমোদন দেয় জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি – একনেক, যার মোট অনুমোদিত প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে তিন হাজার ৬৬৬ কোটি ৩৬ লক্ষ ৭৩ হাজার টাকা।
এর আগে প্রথম পর্যায়ে তিন হাজার ৮৬০ কোটি ৮২ লক্ষ টাকা প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়।
সীমান্ত সড়ক নির্মাণের কাজ শেষ হয়ে এলে দ্রুততম সময়ের মধ্যে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া যাবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
একইভাবে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দিতে হলেও আগে থেকেই বেশ কিছু কাঠামো নির্মাণের প্রয়োজন হবে। সেক্ষেত্রে ভূমি ব্যবস্থাপনা থেকে শুরু করে সীমান্ত সড়ক নির্মাণ এবং বেড়া নির্মাণ পর্যন্ত বড় অঙ্কের অর্থের প্রয়োজন হবে।
যদিও ভারত সীমান্তের ‘স্পর্শকাতর স্থানে’র ক্ষেত্রেই কেবল বেড়া নির্মাণের পরিকল্পনা বিবেচনাধীন রয়েছে বলে সংসদে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সংসদের শীতকালীন অধিবেশনে জানিয়েছিলেন যে, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দুই হাজার ২১৬ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে।
তিনি জানান, এর মধ্যে ১ হাজার ৬৫৩ কিলোমিটার সীমান্তে কাঁটাতার দেওয়া সম্পূর্ণ হয়েছে। তবে একমাত্র পশ্চিমবঙ্গে ৫৬৩ কিলোমিটার সীমান্ত কাঁটাতার দেওয়া বাকি রয়েছে।
ভারত আর বাংলাদেশের সীমান্তের শূন্য রেখা থেকে ভারতের অভ্যন্তরে ১৫ কিলোমিটার পর্যন্ত এলাকায় বিএসএফ তাদের কার্যক্রম যেমন – তল্লাশি, গোপন সূত্রে খবর পেয়ে রেইড ইত্যাদি চালাতে পারত।
বিবিসি






