পোবনিউজ২৪, ঢাকা, ১৯ মার্চ ২০২৬ : সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশ থেকে ৫ আগষ্ট ২০২৪ সালে একটি অভ্যুর্থানের পর বিতারিত হয়ে ভারতে আশ্রয় সেওয়ার পর থেকে গত ১৮ মাসে
বাংলাদেশে মব সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, ছিনতাই,খুন ,জখম এবং চরম পন্থীদের উৎপাত চরম ভাবে ভাবে বৃদ্ধি পায়। শেখ হাসিনা সরকারের সময় ওগুলো নিয়ন্ত্রনে থাকলেও বর্তমানে বেড়ে গেছে। পুলিশসহ আইন শৃংখলা বাহিনী নিয়ন্ত্রন করতে সর্বোপরি ব্যার্থ হচেছ। ওইসব অপরাধমুলক ঘটনা ঘটে যাচেছ একের পর এক।
বৃহস্পতিবার সকালে খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলার খাদিজাবাগ কৃষ্ণনগর ঠিকরাবাদ এলাকায় ঘরে ঢুকে একই পরিবারের চার সদস্যকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। আহত ব্যক্তিদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁদের খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
আহত ব্যক্তিরা হলেন কাজী আনিসুর রহমান, তাঁর স্ত্রী রঞ্জুয়ারা বেগম, ছেলে রাইছুল ইসলাম এবং ছোট ছেলে রাশিদুল ইসলামের স্ত্রী ফাহিমা। তাঁদের মধ্যে রঞ্জুয়ারা বেগম ও ফাহিমাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আনিসুরের ছোট ছেলে রাশিদুল প্রায় তিন বছর আগে একটি মামলায় কারাগারে যান। সেখানে তাঁর সঙ্গে ইমরান নামের এক ব্যক্তির পরিচয় হয়। পরে সেই সূত্রে রাশিদুলের সঙ্গে ইমরানের পরিবারের যোগাযোগ গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে ইমরানের স্ত্রী ফাহিমার সঙ্গে রাশিদুলের সম্পর্ক তৈরি হয়। প্রায় ছয় মাস আগে ইমরান আবার একটি মামলায় কারাগারে গেলে রাশিদুল ফাহিমাকে বিয়ে করেন। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে ইমরান প্রতিশোধ নেওয়ার চেষ্টা করছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে একদল দুর্বৃত্ত ঘরে ঢুকে পরিবারের সদস্যদের লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। পরে স্থানীয় লোকজন আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান।
স্বামীকে নিয়ে দর্জির দোকানে গিয়েছিলেন মুক্তা আক্তার (২১)। কাপড় নিয়ে বাসায় ফিরে আবার বের হন শেষ মুহূর্তের কিছু কেনাকাটা করবেন বলে। কিন্তু সেই বের হওয়াই হয়ে গেল তাঁর ‘জীবনের শেষ যাত্রা’। রিকশায় করে যাওয়ার সময় ছিনতাইকারী হঠাৎ ব্যাগ টান দিলে পড়ে যান মুক্তা। গুরুতর আহত মুক্তাকে কয়েক হাসপাতাল ঘুরে নেওয়া হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেখানেই দুপুরে তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে নয়টার দিকে রাজধানীর উত্তরা এলাকায় চলন্ত অটোরিকশায় বসে ছিলেন মুক্তা। হাউজবিল্ডিং মার্কেটের পথে, মেট্রোরেল স্টেশনের মাঝামাঝি এলাকায় হঠাৎ একটি প্রাইভেটকার এসে কাছ ঘেঁষে দাঁড়ায়। মুহূর্তের মধ্যে গাড়ি থেকে হাত বাড়িয়ে তাঁর ব্যাগ টান দেয় ছিনতাইকারীরা।
ব্যাগের সঙ্গে টান খেয়ে চলন্ত অটোরিকশা থেকে সড়কে ছিটকে পড়েন মুক্তা। গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় বাংলাদেশ মেডিকেল, পরে একের পর এক হাসপাতাল ঘুরে নেওয়া হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। কিন্তু চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে দুপুর পোনে দুইটার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়।
বাংলাদেশে ৯০ দশকে চরমপন্থীদের এতটাই আধিপত্য ছিল যে তারা রাষ্ট্রের মধ্যে একটি ভিন্ন রাষ্ট্র গড়ে তুলেছিল। সেই সময় শিক্ষিত বেকার যুবকদের অধিকাংশই ক্ষমতার আধিপত্য ও লোভ-লালসার কারণে চরমপন্থী দলের সঙ্গে যুক্ত হয়েছিল। চরমপন্থীদের মধ্যে সর্বহারা, বাংলাদেশ পূর্ব বাংলা কমিউনিস্ট পার্টি, হক গ্রুপ, লাল পতাকা সহ একাধিক শক্তিশালী সংগঠন ছিল। এই সংগঠনগুলো বাম রাজনীতিতে বিশ্বাসী ছিল এবং তাদের রাজনৈতিক আদর্শ ভিন্ন হলেও “কেউ দশতলায় কেউ গাছতলায় তা হবে না, সবার সমান অধিকার” এই আদর্শে তারা সবাই এক ছিল। তবে কিছু কিছু সংগঠন নিজেদের আধিপত্য বিস্তার ও আখের গোছানোর জন্য বিভিন্ন অপকর্মে জড়িয়ে পড়ে। এভাবে চলতে চলতে একসময় সব সংগঠনই নিজেদের আধিপত্য বিস্তারের জন্য নিয়মিত প্রতিপক্ষের ওপর হামলা ও হত্যা চালাতে থাকে, ফলে তারা জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে এবং সাধারণ মানুষের ওপর অত্যাচার শুরু করে। এই সময়ে চরমপন্থী সংগঠনগুলো নিষিদ্ধ হয়। কুষ্টিয়া, চুযাডাঙ্গা, মেহেরপুর, যশোর, ঝিনাইদাহ, নড়াইল এলাকায় চরমপন্থীরা দিন দিন বেপরোয়া হয়ে ওঠে এবং একসময় তারা থানা ও পুলিশ ফাঁড়িতে হামলা করে অস্ত্র লুট করতে শুরু করে এবং বিভিন্ন ব্যাংকের শাখাগুলোতে ডাকাতি শুরু করে। এদের নিয়ে সরকারের উদ্বেগ বাড়তেই থাকে। এরপর শেখ হাসিনার সরকার সারাদেশে বিশেষ অভিযান শুরু করে এবং এই অভিযানের মধ্য দিয়েই সারা দেশের চরমপন্থী নেতা ও সদস্যরা র্যাবের হাতে ক্রসফায়ারে নিহত হয় বা গ্রেপ্তার হয়। এরপর থেকে চরমপন্থী সদস্যরা আত্মগোপনে চলে যায় এবং দিন দিন এদের বিচরণ আর দেখা যায় না।
বর্তমানে কুষ্টিয়ার মানুষ আবার নতুন করে চরমপন্থীদের আতঙ্কে ভীত। প্রতিনিয়তই জেলার বিভিন্ন বালুমহলে সশস্ত্র অবস্থায় এদেরকে দেখা যায়। কিছুদিন আগে জেলার কয়া ইউনিয়নে বালুমহলে চরমপন্থীরা বালুমহলের ম্যানেজারকে গুলি করে টাকা পয়সা লুটে নিয়ে যায়। জেলার বড় বড় ব্যবসায়ী ও ঠিকাদারকে মোটা অংকের চাঁদা দাবি করে এবং প্রাণনাশের হুমকি দেয়। সব মিলিয়ে ৫ আগস্টের পর থেকে চরমপন্থীদের গুলিতে নিহতদের মধ্যে ঝিনাইদহ ও কুষ্টিয়া জেলা সীমান্তবর্তী এলাকায় সংঘটিত ত্রিপল মার্ডার অন্যতম।
যাহোক,শেখ হাসিনা বিতারিত হওয়ার পর থেকেই বাংলাদেশে আবার শুরু হয় তাদের বিচরণ। এক সময় ছিনতাইকারীরা বেপরোয়া ছিল দিনে দুপুরে হতো ছিনতাই। তাদের ছুরিাকাঘাতে অনেকেরই মৃত্যু হয়েছে। বর্তমানে ওইসব অপরাধীরা মাথাচাঁড়া দিয়ে ওঠার কারণে জনমনে চরম অশান্তি দেখা দিয়েছে। খলনা, রাজধানী উত্তরার ঘটনা জনগণের বিবেককে নাড়িয়ে তুলেছে। জনগণের বক্তব্য, ’এখনতো আর শেখ মুজিবের মেয়ে শেখ হাসিনা নেই পুর্বের অপরাধীরাতো বেপরোয়া হবেই’।






