পোবনিউজ২৪, ঢাকা মে ১৭,২০২৬ : একজন দক্ষ কুটনীতিক প্রণয় ভার্মা। বাংলাদেশে ভারতের বিদায়ী হাইকমিশনার। বাংলাদেশে তার দায়িত্ব পালন শেষে ফিরে যাবার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তার অংশ হিসাবে শনিবার অপরাহ্নে তার বাসভবনে ঢাকার কুটনৈতিক বিটের সাংবাদিকদের কাছ থেকে বিদায় নিতে একটি রিসিপশন অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিলেন।
প্রণয় ভার্মা বেলজিয়ামে ভারতের রাষ্ট্রদূত হিসাবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। বাংলাদেশে তার দায়িত্বকালে ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের ঝড়ো হাওয়া বয়ে গেছে। শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ, মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তরবর্তী সরকার এবং তারেক রহমানের বিএনপি সরকারের কালে তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন। বিশেষ করে ছাত্রদের নেতৃত্বে ২০২৪ সালের অ্ভ্যূত্থানকাল বেশ কঠিন সময় ছিল।
বাংলাদেশ–ভারত সম্পর্কের অবনতি ও জনঅসন্তোষ:
সীমান্ত হত্যা, তিস্তার পানি বণ্টন, ট্রানজিট এবং ভারতের প্রতি বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ এসব বিষয় তার দায়িত্বকালকে কঠিন করে তোলে। বিভিন্ন বৈঠকে বিএনপি নেতারাও এসব ইস্যু সরাসরি তার সামনে তুলে ধরেন। বাংলাদেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব হওয়া : ২০২৪ সালের ডিসেম্বর ও ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে তাকে বাংলাদেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ডাকা হয়। আগরতলায় বাংলাদেশ মিশনে হামলার পর তাকে তলব করা হয়। সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া ও উত্তেজনা নিয়েও তাকে ব্যাখ্যা দিতে হয় । সীমান্ত উত্তেজনা ও নিরাপত্তা ইস্যু যেমন, বিএসএফের গুলি, সীমান্তে মৃত্যু, অবৈধ বেড়া নির্মাণ ইত্যাদি ইস্যু দুই দেশের সম্পর্কে চাপ সৃষ্টি করে। এসব বিষয়ে তাকে বারবার কূটনৈতিকভাবে অবস্থান ব্যাখ্যা করতে হয়েছে। ভারতবিরোধী বিক্ষোভ ও নিরাপত্তা ঝুঁকি:
বাংলাদেশে ভারতীয় ভিসা সেন্টার ও হাইকমিশন ঘিরে বিক্ষোভ, হুমকি এবং ভিসা কার্যক্রমে বিঘ্নও তার সময়ের বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। কিছু ক্ষেত্রে হাজার হাজার পাসপোর্ট ফেরত দেওয়ার ঘটনাও ঘটে। সংখ্যালঘু ইস্যু ও কূটনৈতিক চাপ:
বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের অভিযোগকে কেন্দ্র করে ভারতে প্রতিবাদ-বিক্ষোভ হয়, যা দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে চাপ বাড়ায়। এই পরিস্থিতিতেও তাকে সম্পর্ক স্থিতিশীল রাখার চেষ্টা করতে হয়েছে।
চ্যালেঞ্জিং সময়ে কোনও কূটনীতিকের কীভাবে ঠান্ডা মাথায় হাসিমুখে পরিস্থিতি সামাল দিতে হয় তা মিস্টার ভার্মাকে দেখে শেখার আছে। তিনি তার সময়কালে কোনও বিতর্কিত মন্তব্য করেননি। তার মানে এই নয় যে তিনি কোনও মন্তব্যই করেননি; একেবারে ফার্ণিচারের মতো চুপ থেকেছেন এমন নয়। তার সরকারের কথা, জনগণকেন্দ্রীক সম্পর্ক গড়ে তোলার কথা বারবারই বলেছেন। বাংলাদেশ – ভারত সম্পর্ক মেরামতে যথেষ্ঠ অবদান রেখেছেন। এই সময়ে তার স্ত্রী মানু ভার্মাও ছিলেন হাসিখুশি দারুন এক সঙ্গী হিসাবে।
সাংবাদিকরা প্রণয় ভার্মা ও তার সহধর্মিনী মানু ভার্মার জন্যে সর্বদা শুভ কামনা করেছেন ।






