পোবনিউজ ২৪, ঢাকা ২৭ মে ২০২৬ : ঈদুল আযহা ইসলাম ধর্মের অন্যতম প্রধান দু’টি উৎসবের একটি । বৃহস্পতিবার পালিত হবে এই ধর্মীয় উৎসব। বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন স্থানে থেমে থেমে বৃষ্টি, পথে-ঘাটে জলাবদ্ধতা, পরিবহন সংকট, বাড়তি ভাড়া, দুর্ঘটনার ঝুঁকি সবকিছু উপেক্ষা করে প্রতিবারের মতো এবারও পরিবারের সাথে ঈদের ছুটি কাটাতে বাড়ি ফিরছেন ঘরমুখো মানুষ লাখো মুসলিম।
কেউ বাড়তি ভাড়া দিয়ে বাসে, কেউ ট্রেনে, কেউ কেউ আবার যাতায়াত খরচ কমাতে খোলা ট্রাক বা পিকআপে করেই বৃষ্টি মাথায় নিয়ে ভিজতে ভিজতে বাড়ির পথে রওনা হয়েছেন। কেউ কেউ এখনও পথে রয়েছেন।
এর মধ্যেই বাড়ছে দুর্ঘটনার আশঙ্কাও। সড়ক অব্যবস্থাপনা ও যাত্রী অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির তথ্য অনুযায়ী, ২১ মে থেকে ২৬ মে পর্যন্ত দেশে ১৩৩টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১৬১ জন নিহত এবং ৩৮৯ জন আহত হয়েছেন।
ঢাকার আশপাশের বিভিন্ন জেলার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, খরচ বাঁচাতে অনেক মানুষ ঝুঁকি নিয়েই বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে ট্রাকে করে বাড়ি ফিরছেন।
ইতোমধ্যে অনেক মানুষ বাড়ি পৌঁছে গেলেও অনেকে এখনো ঢাকায় আছেন। ছুটি পেলেও বৃষ্টি ও দুর্ভোগের কারণে তারা রওনা হতে পারেননি। তাদের অনেকেই আজ বাড়ি যাবেন।
আরবি বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী, প্রতিবছর জিলহজ মাসের ১০ তারিখ কোরবানির দিন ও পরবর্তী দুই দিন ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা বিভিন্ন পশু কোরবানি দিয়ে থাকেন।
সে হিসেবে এ বছর বাংলাদেশে ঈদুল আযহা পালিত হবে আগামীকাল বৃহস্পতিবার, ২৮শে মে।
কিন্তু বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকাসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলেই গত কয়েকদিন ধরে হালকা থেকে মাঝারি কিংবা কখনো বা ভারি বৃষ্টিপাত হচ্ছে। বিশেষ করে গত ২৪শে মে থেকে।
আর, এর পরই ঈদুল আযহা উপলক্ষে সরকারি ছুটিও শুরু হয়েছে। তাই, পরিবার পরিজন নিয়ে ঈদের ছুটি কাটাতে অনেকেই ছুটেছেন বাড়ির পথে।
ঈদুল আযহা বা কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পশুর হাট বসেছে। তাই, স্বভাবতই এই হঠাৎ বৃষ্টি পশু ক্রেতাদের দুর্ভোগও বাড়িয়ে দিয়েছে অনেকটা।
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর আজ মঙ্গলবার, ২৭শে মে সকাল ৯টায় আগামী পাঁচ দিনের একটি আবহাওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে। যেখানে বলা হয়েছে, ঈদের দিন সকালে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অস্থায়ী দমকা হাওয়া ও হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
যেমন– ঢাকা, রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। সেইসাথে, সারাদেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী বর্ষণের সম্ভাবনাকেও উড়িয়ে দিচ্ছে না আবহাওয়া অফিস।
তবে ঈদের দিন সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা, রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, খুলনা ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ী দমকা হাওয়া এবং হালকা থেকে মাঝারি বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বরিশাল ও চট্টগ্রামের কিছু কিছু জায়গায়ও এটি হতে পারে।
ঈদুল আযহা উপলক্ষে এবার বেশ কিছু সরকারি ও বেসরকারি খাত বাদে বাকিদের জন্য গত ২৫শে মে থেকে আগামী ৩১শে মে পর্যন্ত টানা সাত দিন সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার।
যেমন জরুরি পরিষেবা হিসেবে গণ্য বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস, বেসরকারি শিল্প ও কলকারখানা, চিকিৎসা সেবায় নিয়োজিত চিকিৎসক ও কর্মীরা সহ আরও অনেকেই এই ছুটি পাননি।
কিন্তু যারা পেয়েছেন, তাদের অনেকেই ২৪শে মে রাতেই কিংবা পরদিন প্রতিকূল আবহাওয়ার মাঝেই ঢাকা ছেড়েছেন। আবার গার্মেন্টস কর্মীসহ অনেক বেসরকারি অফিসের কর্মীরা ঈদের এক বা দুইদিন আগে ছুটি পেয়েছেন এবং তারা হয় গতকাল গিয়েছেন, বা আজ যাবেন।
সাধারণ ঈদের সময়ে ঢাকা ও এর আশেপাশের যেসব স্থানে সবচেয়ে বেশি যানজট দেখা যায়, তার মাঝে অন্যতম হলো‒ গাজীপুর, মুন্সিগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, কমলাপুর রেলস্টেশন ও সদরঘাট।
এর বাইরে রয়েছে ঢাকার অদূরে অবস্থিত গার্মেন্টস অধ্যুষিত এলাকা সাভার।
এসব এলাকার স্থানীয় প্রশাসন থেকে শুরু করে স্থানীয় সাংবাদিক এবং যাত্রীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, আজ তুলনামূলকভাবে সড়কে, নৌপথে, রেলপথে মানুষের ভীড় কম।
কারণ হিসাবে তারা বলছেন, এবার কোরবানিতে লম্বা ছুটি পড়ায় মানুষ একসাথে না গিয়ে ধাপে ধাপে ঢাকা ছেড়েছেন। সেকারণে সড়কে যাত্রীদের চাপ অনেকটাই কম।
বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় সাড়ে তিন হাজার রপ্তানিমুখী পোশাক কারখানা আছে এবং এগুলোর একটি বড় অংশের অবস্থান সাভারে। এসব কারখানায় লক্ষ লক্ষ শ্রমিক কাজ করেন।
সাভারের স্থানীয় সাংবাদিক এবং শিল্প পুলিশের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ওই এলাকার বেশিরভাগ কারখানাই গত পরশু, অর্থাৎ ২৫শে মে ছুটি হয়েছে। বাকী যেসব গার্মেন্টস রয়েছে, সেগুলোও গতকাল ছুটি দিয়ে দিয়েছে। তাই, গার্মেন্টস কর্মীরা ইতোমধ্যে বাড়ি ফিরে গেছেন।
স্থানীয় সাংবাদিকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, কলকারখানাগুলো ছুটি হওয়ায় গতকাল সন্ধ্যা থেকে সাভারের নবীনগর থেকে বাইপাইল হয়ে শ্রীপুর পর্যন্ত তীব্র যানজট ছিল।
কিন্তু আজ সকাল থেকে ওই এলাকার বিভিন্ন সড়ক-মহাসড়কে মানুষের উপচে পড়া ভীড় নেই। তবে এখনো কোথাও কোথাও যানজট বা ভীড় রয়েছে।
একই ধরনের চিত্র গাজীপুরেও। ঢাকার নিকটবর্তী এই জেলার স্থানীয় সাংবাদিক আরিফ খান আবির জানিয়েছেন, বৃষ্টির কারণে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যান চলাচল কিছুটা ধীরগতির। কিন্তু কোথাও মানুষের উপচে পড়া ভীড় নেই এখন।
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ১৩ কিলোমিটার এখন একেবারেই নিরিবিলি। আর এদিকে পদ্মা সেতুর টোল প্লাজায় গতকাল এক কিলোমিটারের মতো দীর্ঘ যানজট ছিল, তার আগের দিন ছিল দুই কিলোমিটার। কিন্তু আজ তেমন কোনো বিষয় নেই বলেও জানান তিনি।
এদিকে, আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বুধবার দুপুর সোয়া ১টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ কিছু নদীবন্দরের জন্য এক নম্বর সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।
তাতে বলা হয়েছে, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম এবং কক্সবাজার অঞ্চল সমূহের উপর দিয়ে পশ্চিম বা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘন্টায় ৪৫-৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে।






