পোবনিউজ২৪, ঢাকা ২৬ মে ২০২৬ : পশ্চিমবঙ্গের মালদাহ ও মুর্শিদাবাদে বাংলাদেশি সন্দেহে ”তথাকথিত” কয়েক জনকে আটক করে ”হোল্ডিং সেন্টারে” রাখা হয়েছে এবং তাদের পুশব্যাক করা হবে বলে অভিযোগ পাওয়ার পর সীমান্ত এলাকাগুলোতে পাহারা জোরদার করেছে বাংলাদেশ সীমান্ত রক্ষী বাহিনী বিজিবি।
সীমান্তবর্তী রাজ্য ত্রিপুরা, পশ্চিমবঙ্গ এবং আসামেও ভারতের ক্ষমতাসীন দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) এখন ক্ষমতায় ৷ সম্প্রতি রাজ্যগুলোর সরকার নথিপত্রহীন অভিবাসন সমস্যা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে মোকাবিলার ঘোষণা দিয়েছে ৷
চলতি মাসের শুরুর দিকে ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিশ্রি সাংবাদিকদের জানান, বাংলাদেশকে দুই হাজার ৮৬০ জনেরও বেশি মানুষের জাতীয়তা যাচাই করার অনুরোধ জানিয়েছে ভারত সরকার ৷ কর্তৃপক্ষের দাবি, ওই ব্যক্তিরা বাংলাদেশি এবং তারা অবৈধভাবে ভারতে বসবাস করছে ৷ তবে বিষয়টি নিয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোন বিবৃতি পাওয়া যায়নি ৷
এদিকে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-র ৬০তম ব্যাটালিয়ন রবিবার থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সীমান্ত এলাকায় সচেতনতামূলক প্রচারণা শুরু করেছে ৷ মাইক ব্যবহার করে সবাইকে সীমান্ত দিয়ে মানুষকে জোর করে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার প্রচেষ্টার বিষয়ে সতর্ক থাকতে বলছেন তারা ৷
৬০তম ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস. এম. শরিফুল ইসলাম এই প্রতিনিধিকে বলেন, ’সীমান্ত এলাকার গ্রামগুলোতে আমরা মাইকিং শুরু করেছি, যাতে বাসিন্দাদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি পায়, জোরপূর্বক ঠেলে দেওয়ার প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে তারা যেন সতর্ক থাকেন’। ভারত থেকে মানুষকে জোরপূর্বক ঠেলে দেওয়া হবে এমন উদ্বেগের কারণে বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী ভারত সংলগ্ন সীমান্তের বিভিন্ন অংশে টহল জোরদার ও জনসচেতনতামূলক প্রচারণা শুরু করেছে বলে তিনি জানান ৷
তিনি আরো জানান, ’সীমান্ত এলাকা জুড়ে টহল ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে৷ অবৈধ অনুপ্রবেশ, মানব পাচার এবং মাদক ও অন্যান্য সামগ্রীর চোরাচালান রোধে গোয়েন্দা তৎপরতাও অব্যাহত রয়েছে৷”
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ৪,০০০ কিলোমিটারেরও (২,৪৮৫ মাইল) বেশি দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে ৷ বিশ্বের অন্যতম দীর্ঘ এ স্থলসীমান্তের প্রায় ৭৩ কিলোমিটারের একটা অংশ পড়েছে বাংলাদেশের পূর্বাঞ্চলের জেলা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তিনটি উপজেলায় ৷ ওই অংশটি ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য সংলগ্ন ৷ এছাড়া ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসামের সঙ্গেও রয়েছে বাংলাদেশের সীমান্ত ৷ এসব এলাকা দিয়ে ২০২৫ সালের মে মাস থেকে এ পর্যন্ত কয়েকশ মানুষকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয় ৷ তার আগে ৩০ হাজার মানুষকে ‘বিদেশি’ হিসেবে চিহ্নিত করে আসামের বিভিন্ন ট্রাইব্যুনাল ৷ তবে বেশ কয়েকটি মানবাধিকার সংস্থা মনে করে, ভারতের কর্তৃপক্ষ মানুষকে নির্বিচারে দেশ থেকে বহিষ্কার করেছে ৷ বাংলাদেশের পক্ষ থেকে যেকোনো প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রে আনুষ্ঠানিক দ্বিপাক্ষিক প্রক্রিয়া অনুসরণের দাবি জানিয়ে সীমান্ত দিয়ে একতরফাভাবে এবং জোর করে কাউকে ঠেলে না পাঠানোর কথা বলা হয়েছে বারবার ।
এদিকে, পশ্চিমবঙ্গে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) বিজয়ের পর বাংলাদেশে পুশব্যাগ ঠেকাতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশকে (বিজিবি) সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং জেলা প্রশাসক সম্মেলনেও পুশ-ইন ইস্যুটি নিয়ে আলোচনা হয়েছে এবং সীমান্ত অঞ্চলগুলোতে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন উদ্দিন আহমদ।






