পোবনিউজ২৪, ঢাকা ২০ আগষ্ট ২০২৬ : বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ ভবনে দুপুর ২টা থেকে ৫টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ অনুণ্ঠিত হয়। ভোটে রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি পেয়েছেন ২৫৫ ভোট। আর ১১–দলীয় ঐক্যের প্রার্থী অলি আহমদ পেয়েছেন ৮৮ ভোট। সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে বিজয়ী ঘোষণা করেছেন।
সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিন ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার ঘোষণা দিয়ে বলেন, এখন জাতীয় সংসদ সচিবালয় ও নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের কর্মকর্তারা ভোট গণনা শুরু করবেন। গণনা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ফলাফল জানিয়ে দেওয়া হবে।
ভোটের শুরু থেকে এক ঘণ্টার বেশি সময় ধরে সংসদ কক্ষে নিজের আসনে বসে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট গ্রহণ দেখলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় তাঁর পাশের আসনে ছিলেন দলের প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এরপর ছিলেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ ও প্রবীণ সংসদ সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন।
প্রধানমন্ত্রী নিজের আসনে যখন বসে ছিলেন, তখন তাঁর সামনে দাঁড়িয়ে থাকা সংসদ সদস্যদের সঙ্গে তিনি কথা বলেন এবং তাঁদের খোঁজ-খবর নেন।
প্রধানমন্ত্রী বিকাল ৩টা ১৩ মিনিটে সংসদ কক্ষ ছেড়ে নিজের কার্যালয়ে যান। সেখান থেকে চলে যাওয়ার সময় তিনি দলের প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে সঙ্গে নেন।
নতুন রাষ্ট্রপতি আগামীকাল শুক্রবার সন্ধ্যা সাতটায় বঙ্গভবনে শপথ নেবেন বলে জানিয়েছেন চিফ হুইপ।
সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ না থাকলে এবং স্বাধীনভাবে ভোট দেওয়ার সুযোগ থাকলে রাষ্ট্রপতি পদটি আরও বেশি সম্মানিত হতো বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) খোকাদের পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। দুইটার দিকে দুপুরে সংসদ ভবনে সাংবাদিকদের নাহিদ ইসলাম এ কথা বলেন।
এদিকে, বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেছেন, ’একজন শিক্ষাবিদ, অভিজ্ঞ রাজনীতিক ও সজ্জন ব্যক্তি হিসেবে তাঁর এই নতুন দায়িত্ব গ্রহণ রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদটির মর্যাদা আরও সমুন্নত করবে।’
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এ অভিনন্দনবার্তা পোস্ট করা হয়।
তাঁকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়ে অধ্যাপক ইউনূস শুভেচ্ছাবার্তায় লিখেছেন, ’মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের রাজনৈতিক পথচলা পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে বিস্তৃত ও বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের সঙ্গে নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত। সাংগঠনিক দক্ষতা, প্রজ্ঞা, সংকটকালে নেতৃত্ব এবং তৃণমূলের মানুষের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করার অভিজ্ঞতা তাঁকে এ দেশের জাতীয় রাজনীতিতে একটি স্বতন্ত্র অবস্থানে প্রতিষ্ঠিত করেছে।’
একজন শিক্ষাবিদ, অভিজ্ঞ রাজনীতিক ও সজ্জন ব্যক্তি হিসেবে মির্জা ফখরুলের এই নতুন দায়িত্ব গ্রহণ রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদটির মর্যাদা আরও সমুন্নত করবে বলে আশাবাদ জানিয়েছেন নোবেলজয়ী অধ্যাপক ইউনূস। তিনি বলেছেন, ‘মহামান্য রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে বাংলাদেশ আরও সমৃদ্ধ, ন্যায়ভিত্তিক ও গণতান্ত্রিক পথে এগিয়ে যাবে এই প্রত্যাশা রাখি। তাঁর সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও দায়িত্ব পালনে আমি সর্বাঙ্গীণ সাফল্য কামনা করছি।’
অন্যদিকে সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা নির্বাচন নিয়ে বৃহস্পতিবার মিডিয়ার কাছে কিছু মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেছেন, ’আমার কাছে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে অর্থহীন মনে হয়েছে। কারণ, ভোটে অনিশ্চয়তা না থাকলে সেটা কোনো নির্বাচন নয়। এই ভোটের ফলাফল কী, তা সবার জানা। তাহলে এটাকে ভোট কেন বলব। সুতরাং এটা মনোনয়ন, নির্বাচন নয়। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসন থেকে নির্বাচিত স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানাসহ ৬ জন ভোট দেন নি।
ভোট না দেওয়ার দ্বিতীয় কারণ ব্যাখ্যা করে রুমিন ফারহানা বলেন, ’এত বড় একটি গণ-অভ্যুত্থান গেল, যার সঙ্গে জাতি হিসেবে আমাদের আত্মত্যাগ, অনেক স্বপ্ন জড়িত। তাহলে আমরা সবাই মিলে কেন একজন অরাজনৈতিক এবং গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিকে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনীত করতে পারলাম না।’
তৃতীয় কারণকে নিজের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে রুমিন ফারহানা বলেন, ’রাষ্ট্রপতি পদে ভোটের আগে বিএনপি সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের ভয় দেখাল। অথচ ২০১৬ সাল থেকে বিএনপি ভিশন ২০৩০-এ গলার রগ ফুলিয়ে কথা বলছে। এখন তারা বলছে, দলের বাইরে ভোট দিলে তাঁর সদস্যপদ বাতিল হবে। এ রকম প্রহসনের ভোট আমি কেন দেব?’





