পোবনিউজ২৪, ঢাকা, ২৯ জুলাই ২০২৬ : বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে দিল্লি অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশে ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী।
বুধবার বিকালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।
দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, বৈঠকে বাংলাদেশ-ভারতের বিভিন্ন দ্বিপাক্ষিক বিষয় নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। সংস্কৃতি, খেলাধুলাসহ পারস্পরিক সহযোগিতার বিভিন্ন ক্ষেত্র নিয়ে মতবিনিময় হয়েছে, যা দুই দেশের সম্পর্ক আরও জোরদারে ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর প্রসঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, এ সফর নিয়ে দিল্লি অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে।
তিস্তা চুক্তির বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এমন কোনো সমস্যা নেই যার সমাধান সম্ভব নয়। দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ ও পারস্পরিক সম্পর্ক আরও জোরদারের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
দীনেশ ত্রিবেদী আরও বলেন, বৈঠকটি অত্যন্ত ফলপ্রসূ হয়েছে। দুই দেশের জনগণের স্বার্থে ভারত বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক আরও এগিয়ে নিতে চায়। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও ভারত শুধু সীমান্তই ভাগাভাগি করে না, দুই দেশের মধ্যে ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিরও গভীর বন্ধন রয়েছে।
উল্লেখ্য যে, বাংলাদেশে ভারতের নবনিযুক্ত হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী ২০২৬ সালের ৫ জুন ঢাকায় এসে দায়িত্ব গ্রহণের আনুষ্ঠানিকতা শুরু করেন। এরপর ২৫ জুন বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিনের কাছে তিনি তাঁর পরিচয়পত্র (লেটার অব ক্রেডেন্স) পেশ করেন। এ সময় তাঁকে প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টের পক্ষ থেকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। পরে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন দীনেশ ত্রিবেদী বাংলাদেশে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করেছেন। বিভিন্ন পর্যায়ে সরকারি কর্মকর্তা, নীতিনির্ধারক, কূটনীতিক, ব্যবসায়ী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠকের মাধ্যমে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ঢাকা ও নয়াদিল্লির মধ্যে বিদ্যমান সম্পর্ককে আরও কার্যকর ও ফলপ্রসূ করতে নতুন হাইকমিশনার সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন। বিশেষ করে বাণিজ্য, সংযোগ, জ্বালানি, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা সহযোগিতা এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির মতো বিষয়গুলোকে তিনি গুরুত্ব দিচ্ছেন বলে সংশ্লিষ্ট মহলের পর্যবেক্ষণ।
বিশ্লেষকদের ভাষ্য, রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার পাশাপাশি কূটনৈতিক যোগাযোগ দক্ষতার কারণে দীনেশ ত্রিবেদী দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান আস্থার পরিবেশকে আরও শক্তিশালী করার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে তাঁর উদ্যোগগুলোর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নির্ভর করবে বাংলাদেশ ও ভারতের পারস্পরিক রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং দ্বিপক্ষীয় সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের ওপর।
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার সম্পর্ক বর্তমানে অর্থনীতি, বাণিজ্য, যোগাযোগ, জ্বালানি, নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক সহযোগিতাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিস্তৃত। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নিতে ঢাকায় ভারতের নতুন হাইকমিশনারের ভূমিকা আগামী দিনগুলোতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।





