বনগাঁও (পশ্চিমবঙ্গ) ৮ মার্চ ২০২৬ : ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান হাদি হত্যার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ও সহযোগী আলমগীরকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্কফোর্স (এসটিএফ)। রোববার সন্ধ্যায় গোয়েন্দা সুত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
গোপন ও বিশ্বাসযোগ্য তথ্য ছিল যে, দুই বাংলাদেশি নাগরিক বাংলাদেশে চাঁদাবাজি ও খুনের মতো গুরুতর অপরাধ করার পর তাদের দেশ থেকে পালিয়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেছে এবং সুযোগ পেলেই বাংলাদেশে ফিরে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বনগাঁ সীমান্ত এলাকায় আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করছে।
এই তথ্যের ভিত্তিতে, একটি অভিযান চালানো হয় রোববার ভোর
রাতে বনগাঁ এলাকা থেকে দুই বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করা হয়। আটকৃতরা যথাক্রমে হলো, রাহুল ফয়সাল করিম মাসুদ (৩৭) বাংলাদেশের পটুয়াখালীর বাসিন্দা এবং আলমগীর হোসেন (৩৪) বাংলাদেশের ঢাকার বাসিন্দা।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে রাহুল ওরফে ফয়সাল করিম মাসুদ, আলমগীর হোসেনের সাথে মিলে বাংলাদেশের একজন রাজনৈতিক কর্মী ওসমান হাদিকে হত্যা করে পালিয়ে যায়। তারা মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতীয় ভূখণ্ডে প্রবেশ করে এবং ভারতের বিভিন্ন স্থান দিয়ে চলাচল করে এবং অবশেষে বাংলাদেশে ফিরে আসার উদ্দেশ্যে পশ্চিমবঙ্গের বনগাঁয় আসে।
এই বিষয়ে একটি নির্দিষ্ট মামলা দায়ের করা হয়েছে বনগাঁও থানায় । রোববার সংশ্লিষ্ট আদালতে হাজির করার পর তাদের পুলিশ হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে আরও বিষদ তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ছিলেন শরিফ ওসমান হাদি। তিনি ঢাকা-৮ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়ে প্রচারে নেমেছিলেন। ১২ ডিসেম্বর তিনি গুলিবিদ্ধ হন। ১৮ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সহযোদ্ধাদের চোখে তিনি এক লড়াকু যোদ্ধা ছিলেন।
ওসমান হাদির ওপর হামলার ঘটনায় রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রতিবাদী বিক্ষোভ–মিছিল হয়। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরদিন ওসমান হাদির ওপর হামলার ঘটনায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দল-সংগঠন নিন্দা ও প্রতিবাদ জানায়।
ওসমান হাদিকে গুলি করার ঘটনায় সন্দেহভাজন একজনকে শনাক্ত করার কথা ১৩ ডিসেম্বর জানিয়েছিল ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।
পুলিশ ও র্যাব কর্মকর্তারা বলেছিলেন, ওসমান হাদিকে সরাসরি গুলি করা ব্যক্তির নাম ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে দাউদ খান ওরফে রাহুল। তিনি নিষিদ্ধ আওয়ামি লিগের ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের নেতা ছিলেন ।
পুলিশ সদর দপ্তর তার ছবিসহ তথ্য সীমান্ত, সমুদ্রবন্দর ও বিমানবন্দরের কর্তব্যরত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে পাঠায়।
গুলি করা ব্যক্তিকে ধরিয়ে দিতে ৫০ লাখ টাকা পুরস্কারের ঘোষণা দেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এই হামলার ঘটনায় মোট ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁরা হলেন ফয়সালের স্ত্রী সাহেদা, শ্যালক ওয়াহিদ, বান্ধবী মারিয়া, মোটরসাইকেলের মালিক সন্দেহে হান্নান এবং ভারতে পালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে সহায়তার অভিযোগে সঞ্জয় চিসিম ও সিমিরন দিও।






