পোবনিউজ২৪, ঢাকা, ৪ এপ্রিল ২০২৬ : বাংলাদেশে শিশুদের ”হাম” রোগ মহামারি আকারে উদ্বেগজনক হারে বাড়তে শুরু করেছে। আতংক দেখা দিয়েছে দেশ জুড়ে। হামের উপসর্গ নিয়ে গত ১৯ দিনে ৯৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বেসরকারি ভাবে এ সংখ্যা আরও বেশি বলে বাংলাদেশ ওয়ার্কাস পাটি তাদের একটি প্রেস নোটে জানিয়েছে।
শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারা দেশে হাম সন্দেহে ৫ হাজার ৭৯২ শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে পরীক্ষায় ৭৭১ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। একই সময়ে নিশ্চিতভাবে হামের কারণে ৯ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
আক্রান্তদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি রোগী পাওয়া গেছে ঢাকা বিভাগে, যেখানে ৩১৮ জন শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে নতুন করে ৯৪৭ শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তাদের মধ্যে ৪২ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। এ সময় সর্বোচ্চ ১৮ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে ঢাকা বিভাগে। ময়মনসিংহ বিভাগে এ সময়ে নতুন কোনো রোগী শনাক্ত হয়নি।
বিভাগভিত্তিক হিসেবে রাজশাহীতে ৮ জন, খুলনা ও সিলেটে ৫ জন করে, চট্টগ্রামে ৪ জন এবং বরিশাল ও রংপুরে ১ জন করে নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, হামের জীবাণু শরীরে প্রবেশের ১০ থেকে ১৪ দিনের মধ্যে লক্ষণ প্রকাশ পায়। প্রাথমিক উপসর্গের মধ্যে রয়েছে সর্দি, কাশি, তীব্র জ্বর, চোখ লাল হওয়া ও পানি পড়া, এবং গালের ভেতরে সাদা দাগ (কপ্লিক স্পট)।
পরবর্তীতে ত্বকে লাল ফুসকুড়ি দেখা দেয়, যা প্রথমে মুখ ও গলায় শুরু হয়ে ধীরে ধীরে সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। সাধারণত ৫ থেকে ৬ দিনের মধ্যে এই র্যাশ মিলিয়ে যায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অধিকাংশ আক্রান্ত শিশু ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যে সুস্থ হয়ে ওঠে এবং পরবর্তীতে শরীরে দীর্ঘমেয়াদি রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয়। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে দ্রুত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
হাসপাতালের রোগীরা অভিযোগ করছেন, জাতীয় কর্মসূচির আওতায় টিকা দেওয়া হলেও বাস্তবে অনেক শিশু নির্ধারিত সময়মতো টিকা পাচ্ছে না। বিশেষ করে শহরের বস্তি এলাকা, দুর্গম গ্রাম এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মধ্যে টিকাদান কার্যক্রম পুরোপুরি কার্যকর নয়। ফলে গোষ্ঠীগত প্রতিরোধক্ষমতা বা “হার্ড ইমিউনিটি” দুর্বল হয়ে পড়ছে, যা সংক্রামক রোগের বিস্তারের সুযোগ তৈরি করছে। শিশু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোভিড-১৯ মহামারির দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব এখনও দৃশ্যমান। মহামারির সময় নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি ব্যাহত হয়, অনেক পরিবার স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যেতে অনীহা প্রকাশ করে এবং স্বাস্থ্যখাতের অগ্রাধিকারও পরিবর্তিত হয়। এর ফলে বিপুল সংখ্যক শিশু টিকার বাইরে থেকে যায়, যা বর্তমানে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি কমরেড মাহমুদুল হাসান মানিক ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক কমরেড নুর আহমদ বকুল দেশ জুড়ে হামের প্রদুর্ভাবে আক্রান্ত হয়ে শত শিশুর মৃত্যুসহ বাংলাদেশের প্রতিটি জেলাতে হাজার হাজার শিশু আক্রান্ত হওয়ার ঘটনায় তীব্র উদ্বেগ ও উৎকন্ঠা জানিয়ে বলেছেন, “সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের গাফিলতিতে হামে আক্রান্ত হয়ে শত শত শিশু মৃত্যুবরণ করছে যা এক প্রকার কাঠামোগত হত্যাকান্ড। এই হত্যাকান্ডের দায় গত ইউনুস সরকারসহ বর্তমান সরকার এড়াতে পারে না। সরকারের টিকাদান কর্মসূচি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অগ্রাধিকার কর্মসূচির একটি কাজ যা নিয়মিত ভাবে করা উচিত। কিন্তু দুর্ভাগ্য হলেও সত্যি গত ২ বছর ইউনুস সরকারের পক্ষে এই কর্মসূচি বন্ধ রেখে দেওয়া হয়েছিলো যার ফলাফল হচ্ছে দেশে শিশু মৃত্যুসহ লক্ষ লক্ষ শিশু হাম রোগে আক্রান্ত হচ্ছে যা মহামারিতে রূপ নিয়েছে। বয়স্করাও আক্রান্ত হচ্ছেন সেই সংগে নিউমোনিয়ার মত কঠিন ছোয়াছে রোগও ছড়িয়ে পড়েছে। সরকারের উচিত হবে অবিলম্বে টাস্ক ফোর্স গঠন করে হামের মহামারি প্রতিরোধে টিকা কর্মসূচি চালু এবং সকল সরকারী বেসরকারি হাসপাতালে জরুরী স্বাস্থ্যসেবা ক্যাম্প চালু করা “।






