পোবনিউজ২৪, ঢাকা ৯ মে, ২০২৬ : ১৯৭১ সালের পর এ থেকে বাংলাদেশ অনেকটা এগিয়ে গেলেও কিছু কিছু ক্ষেত্রে এখনও আশানুরুপ সাফল্য অর্জন করতে পারেনি। তবে দু দেশের মধ্যে পারস্পরিক সমঝোতা এগুলোকে এগিয়ে নিতে পারে যেটি সম্প্রতি বাংলাদেশি সাংবাদিকরা সরেজমিন না গেলে বুঝতে পারতো না। বিশেষ করে চিকিৎসা ব্যাবস্থা ও আইটি সেক্টর। বাংলাদেশের জনগনের পাশে ভারত সব সময়ই ছিল এখনও থাকবে এ বিষয়েও নিশ্চয়তা দিয়েছেন বিদেশ সচিব বিক্রম মিশ্রি ।
মুম্বাই বাংলাদেশিদের জন্য দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শহর বিশেষ করে ব্যবসা, চিকিৎসা ও উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে। এটি ভারতের আর্থিক রাজধানী। এখানে টেক্সটাইল, গার্মেন্টস, আইটি, মিডিয়া, ফার্মাসিউটিক্যাল ও আমদানি-রপ্তানিতে বড় বাজার আছে। আগে থেকেই বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা বিশেষ করে কাপড়, চামড়া, ওষুধ, মেশিনারি ও কসমেটিকস আমদানিতে মুম্বাইকে ব্যবহার করেন।ভারতের বড় বড় কোম্পানির হেড অফিস মুম্বাইয়ে হওয়ায় B2B যোগাযোগ সহজ। সমুদ্রবন্দর ও আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং সুবিধা থাকায় ট্রেড অপারেশন সুবিধাজনক।
বাংলাদেশ আইআইটি’র মাধ্যমে যেসব বিষয়ে উপকৃত হতে পারে যেমন: Indian Institute of Technology Bombay বা আইআইটি বোম্বে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম শক্তিশালী প্রযুক্তি ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান। বাংলাদেশ এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কৌশলগতভাবে যুক্ত হতে পারলে শিক্ষা, প্রযুক্তি, শিল্প, স্টার্টআপ এবং মানবসম্পদ উন্নয়নে বড় ধরনের উপকার পেতে পারে।
বাংলাদেশ কীভাবে উপকৃত হতে পারে,যেমন : উচ্চমানের প্রযুক্তি শিক্ষা ও গবেষণা আইআইটি বোম্বে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), সেমিকন্ডাক্টর, রোবোটিক্স, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং, শক্তি ও টেকসই উন্নয়নসহ বিভিন্ন অগ্রসর প্রযুক্তিতে কাজ করছে। বাংলাদেশ যদি যৌথ গবেষণা, শিক্ষক বিনিময় বা স্কলারশিপ প্রোগ্রাম চালু করতে পারে, তাহলে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গবেষণার মান বাড়বে, প্রযুক্তিনির্ভর মানবসম্পদ তৈরি হবে, বিশ্ববিদ্যালয়-শিল্প সংযোগ শক্তিশালী হবে।
আইআইটি বোম্বের শক্তিশালী উদ্যোক্তা ও অ্যালামনাই নেটওয়ার্ক রয়েছে, যারা ডিপ-টেক, AI, স্পেস টেক ইত্যাদিতে কাজ করছে। বাংলাদেশের তরুণ উদ্যোক্তারা যৌথ ইনকিউবেশন, হ্যাকাথন,গবেষণা-ভিত্তিক স্টার্টআপ,
প্রযুক্তি লাইসেন্সিং এর মাধ্যমে বাস্তব অভিজ্ঞতা ও আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক পেতে পারে।
আইআইটি বোম্বে ইতোমধ্যে ১০০টির বেশি প্রযুক্তি শিল্পে স্থানান্তর করেছে। এতে বাংলাদেশ বিশেষভাবে উপকৃত হতে পারে: কৃষি প্রযুক্তি,বর্জ্য ব্যবস্থাপনা,নবায়নযোগ্য জ্বালানি, স্বাস্থ্য প্রযুক্তি, স্মার্ট ম্যানুফ্যাকচারিংয়ে।
শিল্প ও আইটি খাতের দক্ষ জনবল তৈরি
বাংলাদেশের আইটি ও সফটওয়্যার শিল্প দ্রুত বাড়ছে, কিন্তু উচ্চমানের গবেষণা-ভিত্তিক দক্ষতা এখনো সীমিত। আইআইটি বোম্বের সঙ্গে ট্রেনিং প্রোগ্রাম,অনলাইন সার্টিফিকেশন,যৌথ ল্যাব, ইন্ডাস্ট্রি-অ্যাকাডেমিয়া প্রোগ্রাম
চালু করা গেলে দেশের প্রযুক্তি খাত আরও প্রতিযোগিতামূলক হবে।
বাংলাদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিকীকরণ
আইআইটি বোম্বের আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব রয়েছে এবং বাংলাদেশের Daffodil International University-এর সঙ্গেও অংশীদারিত্ব তালিকাভুক্ত আছে। ভবিষ্যতে বুয়েট,ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, চুয়েট/কুয়েট/রুয়েট, বেসরকারি প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
এসব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আরও বিস্তৃত একাডেমিক সহযোগিতা সম্ভব।
বাংলাদেশ সাধারণত পশ্চিমা বা চীনা প্রযুক্তির দিকে বেশি তাকায়। কিন্তু ভারতীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে বাস্তবভিত্তিক আঞ্চলিক সহযোগিতাকম খরচে,ভাষা ও সংস্কৃতিগতভাবে সহজ,দ্রুত বাস্তবায়ন করা সম্ভব হতে পারে।বিশেষ করে জলবায়ু পরিবর্তন, নগরায়ন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও সাশ্রয়ী স্বাস্থ্য প্রযুক্তিতে বাংলাদেশ-ভারত যৌথ গবেষণা কার্যকর হতে পারে।
জানা গেলো, এতে কিছু সীমাবদ্ধতাও আছে। রাজনৈতিক সম্পর্কের ওঠানামা, ভিসা ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা,
গবেষণা অর্থায়নের সীমাবদ্ধতা,বাংলাদেশে গবেষণা অবকাঠামোর দুর্বলতা, মেধাপাচার (brain drain)
এসব বিষয় সমাধান না হলে পূর্ণ সুবিধা পাওয়া কঠিন হবে। তবে বলা যায়,আইআইটি বোম্বের সঙ্গে একাডেমিক ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা হলে বাংলাদেশ: দক্ষ প্রযুক্তিবিদ তৈরি, গবেষণা উন্নয়ন,স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম,
শিল্প আধুনিকায়ন, AI ও ডিপ-টেক সক্ষমতা এসব ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্যভাবে লাভবান হতে পারে। বিশেষ করে “ডিজিটাল বাংলাদেশ” থেকে “স্মার্ট বাংলাদেশ”-এ যেতে এমন প্রতিষ্ঠানভিত্তিক সহযোগিতা অত্যন্ত কার্যকর হতে পারে।
সম্প্রতি বাংলাদেশি কিছু সাংবাদিক ভারতের দিল্লী ও মুম্বাই গিয়ে অনেক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কথা বলে নিশ্চিত হয়েছে যে দিল্লী ও বোম্বের চিকিৎসা ব্যাবস্থা খুবই উন্নতমানের তবে কিছু হাসপাতাল আছে যে গুলোতে বাংলাদেশি দালালের মাধ্যমে রোগীরা প্রতারিত হচেছ তন্মধ্যে একটি হলো ফরিদাবাদের এশিয়ান হাসপাতাল। একটি ভয়াবহ কিডনি চক্র গড়ে উঠেছে ওই হাসপাতালে। জানা গেছে মাঝে মধ্যেই পলিশ রেড দেয় হাসপাতালটিতে। তবে দিল্লীর Nanavati Max Super Speciality Hospital কেন বাংলাদেশিরা পছন্দ করেন এ বিষয়ে কয়েকজন রোগীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে,তুলনামূলকভাবে পশ্চিমা দেশের চেয়ে কম খরচে উন্নত চিকিৎসা, বাংলা/হিন্দি ভাষা আংশিকভাবে বোঝা যায়। দোভাষী বা লোকাল সাপোর্ট রয়েছে। তবে যেটি সমস্যা সেটি হলো চিকিৎসার পাশাপাশি থাকা-খাওয়ার খরচ বেশি।
অন্যদিকে,বাংলাদেশ-ভারত দু দেশের মধ্যে স্থবির হয়ে পড়া সহযোগিতা গুলো এগিয়ে নিতে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা চলমান। অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছরে এসব প্রক্রিয়াকে ভারত পুনরুজ্জীবিত করে ধীরে ধীরে সক্রিয় করার চেষ্টা করছে।
যা একটি পরিকল্পিত উদ্যোগে হিসেবে উল্লেখ করেছেন ভারতের পররাষ্ট্রসচিব বিক্রম মিশ্রি।






