পোবনিউজ২৪, ঢাকা এপ্রিল ৫, ২০২৬ : ভারতের হাই কমিশনার প্রণয় ভার্মা সোমবার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে সকালে এই স্বাক্ষাত অনুষ্ঠিত হয়। তাঁরা দুই দেশের জাতীয় উন্নয়ন অগ্রাধিকারের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে বিভিন্ন ক্ষেত্রে জনকেন্দ্রিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে দ্বিপাক্ষিক সম্পৃক্ততা নিয়ে আলোচনা করেন।
জনস্বাস্থ্য, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি, নারী ক্ষমতায়ন, পল্লী উন্নয়ন, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, ব্যবসা করার সহজতা, প্রযুক্তি অংশীদারিত্ব এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সহযোগিতাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর আলোচনায় আলোকপাত করা হয়।
হাই কমিশনার জোর দিয়ে বলেন যে, ভারত-বাংলাদেশ সহযোগিতার মাধ্যমে অর্থনৈতিক ও সংযোগমূলক সম্পর্ক জোরদার করে এবং সাংস্কৃতিক ও জনগণের মধ্যে আদান-প্রদান বৃদ্ধি করে তাদের ভৌগোলিক নৈকট্যকে নতুন সুযোগে রূপান্তরিত করা উচিত।
হাই কমিশনার পারস্পরিক স্বার্থ ও সুবিধার ভিত্তিতে বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের সঙ্গে ইতিবাচক, গঠনমূলক এবং দূরদর্শীভাবে কাজ করার জন্য ভারতের অভিপ্রায় ব্যক্ত করেন।
এদিকে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমলের সম্পর্কের ধারা বদলে ভারতের সঙ্গে সম্পূর্ণ নতুন এক অধ্যায় শুরু করতে চায় বর্তমান বিএনপি সরকার।
সোমবার সকালে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মার সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির।
উপদেষ্টা জানান, বৈঠকে দুই দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে বিশেষ আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে ভারত থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে ডিজেল আমদানির বিষয়টি প্রাধান্য পেয়েছে।
হুমায়ুন কবির বলেন, ‘দুই দেশের মধ্যে ইতিবাচক সম্পর্ক বজায় থাকলে অনেক সমস্যার সমাধান সম্ভব। পাইপলাইনে জ্বালানি আমদানির প্রক্রিয়াটি এগিয়ে নিতে আমরা আশাবাদী।’
সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের প্রসঙ্গ টেনে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘শেখ হাসিনার আমলে যে ধরনের সম্পর্ক ছিল, তা আর হবে না। সেই অধ্যায় এখন শেষ।’
আসন্ন ‘ইন্ডিয়ান ওশান কনফারেন্স’-এ যোগ দিতে মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) ভারত সফরে যাচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা। এই সফরে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও নিরাপত্তা বিষয়ক মন্ত্রীর সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে।
হুমায়ুন কবির জানান, সফরে দেশের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট সব বিষয়, বিশেষ করে সীমান্ত হত্যা বন্ধসহ অন্যান্য অমীমাংসিত ইস্যুগুলো নিয়ে আলোচনা হবে।






