কুটনৈতিক প্রতিবেদক
পোবনিউজ২৪, ঢাকা, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬ : দৃষ্টিশক্তি মানুষের জীবনে আলো ফেরায়, খুলে দেয় সম্ভাবনার নতুন দুয়ার। আর সেই আলো সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে বাংলাদেশের রংপুরে শুরু হয়েছে সৌদি আরবের মানবিক উদ্যোগে বিশেষ স্বেচ্ছাসেবী চক্ষু চিকিৎসা অভিযান। অন্ধত্ব ও এর কারণসমূহ মোকাবিলায় পরিচালিত এ কর্মসূচির মাধ্যমে হাজারো মানুষের চক্ষুসেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দৃষ্টিশক্তি রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
সৌদি আরবের কিং সালমান মানবিক সহায়তা ও ত্রাণ কেন্দ্রের (KSrelief) উদ্যোগে এবং স্থানীয় অংশীদার আল-বাসার আন্তর্জাতিক ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় ‘নূর আল-সৌদিয়া স্বেচ্ছাসেবী অভিযান’ শীর্ষক এ কর্মসূচি ৮ থেকে ১৫ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত রংপুর শহরে পরিচালিত হচ্ছে।
অভিযানের আওতায় ৪ হাজার সুবিধাভোগীর চোখ পরীক্ষা, ৪০০টি চোখের অস্ত্রোপচার এবং ১ হাজার জোড়া চশমা বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য সৌদি আরব থেকে একটি স্বেচ্ছাসেবী চিকিৎসক দল রংপুরে পাঠানো হয়েছে।
কর্মসূচিটির মূল উদ্দেশ্য হলো চক্ষুরোগে আক্রান্ত ও চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত মানুষের কাছে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়া, অন্ধত্বের ঝুঁকি মোকাবিলা করা এবং দৃষ্টিশক্তিজনিত সমস্যায় ভোগা মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে সহায়তা করা।
কিং সালমান মানবিক সহায়তা ও ত্রাণ কেন্দ্রের এ উদ্যোগ বিশ্বজুড়ে অসহায় ও অভাবগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে সৌদি আরবের মানবিক অঙ্গীকারের প্রতিফলন। জাতি, ধর্ম, বর্ণ কিংবা সামাজিক পরিচয়ের ভেদাভেদ ছাড়াই মানুষের দুর্ভোগ লাঘব এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার মানবিক দর্শনকে সামনে রেখে এ ধরনের কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সময়মতো চক্ষু পরীক্ষা, সঠিক রোগ নির্ণয় এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা অন্ধত্ব প্রতিরোধ ও দৃষ্টিশক্তি সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এ কারণে রংপুরে পরিচালিত এ ধরনের স্বেচ্ছাসেবী চিকিৎসা উদ্যোগ সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।
মানবিক সহায়তা ও চিকিৎসাসেবার সমন্বয়ে পরিচালিত ‘নূর আল-সৌদিয়া’ অভিযান বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে মানবিক সহযোগিতার একটি উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। এর মাধ্যমে রংপুর অঞ্চলের মানুষের জন্য চক্ষু চিকিৎসার সুযোগ সম্প্রসারণ এবং অন্ধত্ব মোকাবিলায় সচেতনতা বৃদ্ধির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
মানুষের চোখে দৃষ্টির আলো ফিরিয়ে দেওয়ার প্রত্যয় নিয়ে পরিচালিত এ উদ্যোগের লক্ষ্য শুধু চিকিৎসাসেবা প্রদান নয়, বরং অসহায় মানুষের জীবনকে আরও স্বাভাবিক, স্বাচ্ছন্দ্যময় ও সম্ভাবনাময় করে তোলার পথ সুগম করা।






