পোবনিউজ২৪, ঢাকা ২২ মে ২০২৬ : বাংলাদেশের রাজধানী পল্লবী এলাকায় সাত বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং সারাদেশে শিশু ও নারীদেরদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) ঢাকা মহানগর উত্তর বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে। শুক্রবার মিরপুর সাড়ে ১১ নম্বরে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সিপিবি ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি কমরেড হাসান হাফিজুর রহমান সোহেল। বক্তব্য রাখেন সিপিবি কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি কমরেড সাজ্জাদ জহির চন্দন, সিপিবির সাবেক সাধারণ সম্পাদক কমরেড রুহিন হোসেন প্রিন্স, ঢাকা মহানগর উত্তরের সাধারণ সম্পাদক কমরেড লূনা নূর, সিপিবি ঢাকা মহানগর উত্তরের সাবেক সভাপতি কমরেড ডা. সাজেদুল হক রুবেল, সিপিবি ঢাকা মহানগর উত্তরের সম্পাদকমন্ডলীর সদস্য কমরেড লাকী আক্তার, সিপিবি ঢাকা মহানগর উত্তর নারী শাখার সদস্য মনোয়ারা বেগম অন্যান্য নেতৃবৃন্দ । সমাবেশ পরিচালনা করেন সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য মোতালেব হোসেন।
সমাবেশে কমরেড সাজ্জাদ জহির চন্দন বলেন, ”বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণে দেশে নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। সামাজিক অবক্ষয় ও আইনের দুর্বল প্রয়োগের কারণে অপরাধীরা বারবার এমন জঘন্য অপরাধ সংঘটনের সাহস পাচ্ছে। রামিসার পরিবারের হতাশা ও ক্ষোভ সেই বাস্তবতারই প্রতিফলন”। তারা অবিলম্বে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার করে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান।
প্রতিবাদ সমাবেশে সিপিবির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, “রামিসাসহ সম্প্রতিকালে নারী নির্যাতনের ঘটনায় ক্ষুব্ধ মন নিয়ে এখানে উপস্থিত হয়েছি। আজ আমাদের সমাজ কোথায় চলে গেছে তারই চালচিত্র এটি। যে নরপিশাচ এই কাজ করেছে তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।
এর আগে মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী সাত বৎসরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। পল্লবী থানার সেকশন-১১, মিল্লাত ক্যাম্প সংলগ্ন রোড-৭-এর একটি পাঁচতলা ভবনের তৃতীয় তলায় পাশের ফ্ল্যাটে শিশুটিকে ধারালো ছুরি দিয়ে মাথা বিচ্ছিন্ন করে হত্যা করা হয়।
রামিসার পরিবার ওই ভবনে দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে বসবাস করছে। রামিসার বাবা আবদুল হান্নান মোল্লা একটি রিক্রুটিং এজেন্সিতে চাকরি করেন। মা পারভীন আক্তার। দুই মেয়ের মধ্যে রামিসা ছোট। সেদিন সকালে রামিসা স্কুলে যাওয়ার জন্য বের হয়েছিল। স্কুলে না পাঠিয়ে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বাসায় না ফেরায় পরিবার খোঁজা শুরু করেন। রামিসার মা পাশের ফ্ল্যাটের দরজার সামনে রামিসার স্যান্ডেল দেখতে পান।
বাইরে কোথাও না পেয়ে পাশের বাসার বন্ধ দরজায় ডাকাডাকি করলেও সাড়া মেলে না। পরে ৯৯৯-এ জানানো হয়। পুলিশ দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে স্তব্ধ হয়ে যায়। ফ্ল্যাটের খাটের নিচ থেকে রামিসার মাথাবিহীন মরদেহ এবং বাথরুম থেকে বালতিতে বিচ্ছিন্ন মাথা উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের ধারণা, প্রতিবেশীর বিকৃত যৌনলালসার শিকার হয়েছিল শিশুটি। নির্যাতন বা রক্তক্ষরণের বিষয়টি জানাজানি হয়ে যাওয়ার ভয়েই তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পরে আলামত গোপন ও মরদেহ গুম করার উদ্দেশ্যে শিশুটির মাথা ও হাত কেটে ফেলা হয়েছিল। এদিকে, শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার আসামি সোহেল রানা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। একই ঘটনায় তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকেও কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বুধবার গ্রেপ্তারকৃত প্রধান আসামি সোহেল রানাকে আদালতে হাজির করে পুলিশ। পরে স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে সম্মত হলে তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালত।এরপর তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। অন্যদিকে একই ঘটনায় গ্রেপ্তার সোহেল রানার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. আশরাফুল হকের আদালত।
ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের শিকার শিশুর বাবা-মায়ের সঙ্গে দেখা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বৃহস্পতিবার রাতে ওই শিশুর বাসায় যান প্রধানমন্ত্রী। এসময় তার সঙ্গে ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
ওই হত্যাকাণ্ড ও ধর্ষণের ঘটনার সুষ্ঠু ও দ্রুত তদন্ত নিশ্চিত করার আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
এর আগে এই ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় দায়ীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার নির্দেশনা দেন বাংলাদেশ সরকারের দুইজন মন্ত্রী।
ঘটনাটিতে সারা বাংলাদেশ প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থারা প্রতিষ্ঠান ছেড়ে পুর্বের মত আবার রাজপথে নেমে এসেছে। স্কুলের শিক্ষার্থীরা চট্রগ্রাম রাজশাহী রংপুর খুলনা বিভাগীয় শহরে প্রতিবাদে স্বোচছার ছিল শুক্রবার সারা দিন।
বাংলাদেশের ওয়ার্কাস পার্টিও ঘটনার দৃষ্ট্রান্তমুলক শাস্তি দাবি করেছে।






