পোবনিউজ২৪ ঢাকা ৮ জুলাই ২০২৬ : বৈরী আবহাওয়ায় চট্রগ্রাম কক্সবাজার পাহাড় ধস এবং বঙ্গোপসাগর উত্তাল থাকায় ঝড়ো হাওয়া, ভারী বৃষ্টিপাত ও উত্তাল ঢেউয়ের মধ্যে মাছ ধরতে গিয়ে পটুয়াখালী তৎসংলগ্ন এলাকায় পৃথক তিনটি মাছধরা ট্রলার ডুবে গেছে। এসব ঘটনায় এখন পর্যন্ত অন্তত ১৩ জন জেলে নিখোঁজ রয়েছেন। এ রিপোর্ট লেখা প্রশাসন সব জায়গায় উর্ধার কাজ চালিয়ে যাচেছ।
কক্সবাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পের একটি মাদ্রাসার ওপর পাহাড় ধসে ১১ শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে । এ ঘটনায় আরও প্রায় ২০ জন নিখোঁজ রয়েছে বলে জানা গেছে। এ ছাড়া পাঁচজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজদের উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিসসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর উদ্ধার অভিযান চলছে।
বুধবার দুপুরে উখিয়ার ৫ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এ দুর্ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) মিজানুর রহমান।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণের কারণে পাহাড়ের একটি বড় অংশ ধসে পাশের একটি মাদ্রাসা (মক্তব)-এর ওপর আছড়ে পড়ে। দুর্ঘটনার সময় সেখানে ৩০ জনেরও বেশি শিশু পাঠ গ্রহণ করছিল।
ঘটনার পরপরই স্থানীয় রোহিঙ্গা স্বেচ্ছাসেবক, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন), ফায়ার সার্ভিস এবং বিভিন্ন মানবিক সংস্থার সদস্যরা উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে হতাহতদের উদ্ধার করা হচ্ছে।
উদ্ধারকাজ এখনও চলমান থাকায় নিহত, আহত ও নিখোঁজের সংখ্যা পরিবর্তিত হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন।
এদিকে, টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণে কক্সবাজার জেলায় বন্যা ও পাহাড়ধসের ঝুঁকি আরও বেড়েছে। জেলার বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা ও পাহাড়ধসের ঘটনায় জনজীবন ব্যাহত হচ্ছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
অন্যদিকে,পটুয়াখালীর কুয়াকাটা উপকূলসংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপ ও মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে কয়েকদিন ধরে বৈরী আবহাওয়া বিরাজ করছে। ঝড়ো হাওয়া, ভারী বৃষ্টিপাত ও উত্তাল ঢেউয়ের মধ্যে মাছ ধরতে গিয়ে পৃথক তিনটি মাছধরা ট্রলার ডুবে গেছে। এসব ঘটনায় এখন পর্যন্ত অন্তত ১৩ জন জেলে নিখোঁজ রয়েছেন।
বুধবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মহিপুর মৎস্য আড়ৎ মালিক সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রাজু আহমেদ রাজা। এছাড়া বৈরী আবহাওয়ার কারণে আরও অন্তত পাঁচটি মাছধরা ট্রলার আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
তিনি জানান, বুধবার দুপুর ১টার দিকে চর বিজয় সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে ছয় জেলেকে নিয়ে মাছ ধরার সময় একটি ছোট ট্রলার হঠাৎ উত্তাল ঢেউয়ের কবলে পড়ে ডুবে যায়। ট্রলারের মালিক মাসুদ মাঝিকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হলেও এখনো পাঁচ জেলের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
এদিকে, মঙ্গলবার বিকেল প্রায় ৫টার দিকে বঙ্গোপসাগরের প্রায় ১৭ কিলোমিটার গভীরে ফকিরহাট এলাকার এফবি মহিমা নামের একটি মাছধরা ট্রলার ১৮ জেলেকে নিয়ে মাছ ধরার সময় ডুবে যায়। খবর পেয়ে আশপাশে থাকা অন্য ট্রলারের জেলেরা উদ্ধার তৎপরতা চালিয়ে বুধবার দুপুর পর্যন্ত ১৬ জনকে জীবিত উদ্ধার করেন। তবে এখনো দুই জেলে নিখোঁজ রয়েছেন।
এর আগে গত রবিবার বঙ্গোপসাগরের প্রায় ৬০ কিলোমিটার গভীরে গলাচিপা উপজেলার খরিদা গ্রামের ইমাদুলের মালিকানাধীন আরেকটি মাছধরা ট্রলার ডুবে যায়। ট্রলারটিতে ১১ জন জেলে ছিলেন। তাদের মধ্যে পাঁচজনকে জীবিত উদ্ধার করা হলেও বাকি ছয়জন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।
স্থানীয় জেলেরা জানান, গত কয়েকদিন ধরে সাগর অত্যন্ত উত্তাল। হঠাৎ দমকা হাওয়া ও বিশাল ঢেউয়ের কারণে গভীর সাগরে মাছধরা ট্রলারগুলো চরম ঝুঁকির মধ্যে পড়ে। অনেক ট্রলারের জাল ও ইঞ্জিনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বৈরী আবহাওয়ার কারণে উদ্ধার কাজও ব্যাহত হচ্ছে।
নিখোঁজ জেলেদের স্বজনদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। কুয়াকাটা, মহিপুর, ফকিরহাট ও গলাচিপাসহ বিভিন্ন এলাকায় অপেক্ষার প্রহর গুনছেন পরিবারের সদস্যরা। অনেকেই ঘাটে এসে প্রিয়জনের ফেরার আশায় কান্নায় ভেঙে পড়ছেন।
স্থানীয় মৎস্য ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, বৈরী আবহাওয়ার কারণে অনেক ট্রলার নিরাপদ আশ্রয়ে ফিরতে না পেরে গভীর সাগরেই বিপদের মুখে পড়েছে। আবহাওয়া স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত গভীর সাগরে মাছ ধরতে না যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
কলাপাড়া সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, নিখোঁজ জেলেদের উদ্ধারে কোস্টগার্ডসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো অভিযান চালাচ্ছে। আমরা সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি এবং জেলেদের পরিবারগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি। বৈরী আবহাওয়ার কারণে সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে বৈরী আবহাওয়া ও উত্তাল সাগরের কারণে অভিযান পরিচালনায় নানা প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হচ্ছে।






