পোবনিউজ২৪, ঢাকা, ২৭ জুলাই ২০২৬ : বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মহম্মদ সাহাবুদ্দিন শনিবার পদত্যাগ করেছেন। লন্ডনে গিয়ে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তিনি ফোনে কথা বলেছিলেন বলে যে খবর ছড়িয়েছে, তা নিয়ে এ বার মুখ খুলল সে দেশের সরকার। বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ জানিয়ে দিলেন, এ বিষয়ে সরকারের কাছে কোনও তথ্য নেই।
২০২৩ সালে হাসিনা ক্ষমতায় থাকাকালীন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন সাহাবুদ্দিন। ২০২৮ সালের এপ্রিল মাস পর্যন্ত তাঁর কার্যকালের মেয়াদ ছিল। ন’মাস বাকি থাকতেই তাঁর এই পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়ে জল্পনা জোরালো হয়েছে। অনেকেই দাবি করছেন, হাসিনার সঙ্গে ফোনালাপের পর রাষ্ট্রপতির পদ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন সাহাবুদ্দিন। এ প্রসঙ্গে রবিবার ঢাকার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের সভাকক্ষে বসে সালাউদ্দিন জানান, খবরটি তিনি গণমাধ্যমেই দেখেছেন। কিন্তু সরকারের কাছে এমন কোনও তথ্য নেই। এর কোনও প্রমাণও পাওয়া যায়নি। কিসের ভিত্তিতে এই খবর ছড়িয়েছে, জানেন না বলে দাবি করেছেন বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সেই সঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘এখন ইন্টারনেটের যুগে কারও সঙ্গে কথা বলতে চাইলে লন্ডনে যেতে হয় না। এখান থেকেই বলা যায়।’’
কিছু দিন আগে চিকিৎসার প্রয়োজনে লন্ডনে গিয়েছিলেন সাহাবুদ্দিন। ফিরে আসার পর থেকেই তাঁর ইস্তফার জল্পনা শুরু হয়। কী কারণে সময়ের এত আগে তিনি রাষ্ট্রপতির পদ ছাড়লেন, তা স্পষ্ট নয়। তবে শনিবার স্পিকারের হাতে তিনি পদত্যাগপত্র তুলে দেন। বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী, নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না-হওয়া পর্যন্ত অন্তর্বর্তিকালীন দায়িত্ব সামলাবেন স্পিকার। তবে পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে। দেশের সংসদে যে হেতু বিএনপি-র সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে, তাদের মনোনীত প্রতিনিধির রাষ্ট্রপতি হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমে দাবি, পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হতে পারেন বিএনপি-র মহাসচিব মির্জা ফখরুল। আপাতত তাঁর নামই এই পদে সবচেয়ে বেশি আলোচিত।
সাহাবুদ্দিনের সঙ্গে হাসিনার কথোপকথনের খবর প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই বাংলাদেশের বিরোধী শিবিরগুলি সরব। ক্ষমতায় থাকাকালীন হাসিনার ঘনিষ্ঠ ছিলেন সাহবুদ্দিন। তাঁর গ্রেফতারির দাবি তুলেছে বিরোধীরা। তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন সেই সম্ভাবনা কার্যত উড়িয়ে দিয়েছেন। জানিয়েছেন, সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি যে কোনও ফৌজদারি মামলা থেকে রক্ষাকবচ পেয়ে থাকেন। তা ছাড়া, তাঁর বিরুদ্ধে তেমন কোনও প্রমাণও মেলেনি। একই সঙ্গে বিরোধীদের সমালোচনা এবং প্রতিবাদ করার অধিকার আছে বলেও মেনে নিয়েছেন সালাউদ্দিন। তাঁর কথায়, ‘‘স্বৈরাচারের শেষ দিকে (হাসিনা আমলে) , অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে এবং বর্তমান সরকারের আমলে রাষ্ট্রপতি বিধিবিধান এবং সংবিধান অনুসারে দায়িত্ব পালন করেছেন। আমরা তাঁর সহযোগিতা পেয়েছি। সংবিধান অনুযায়ী তাঁর দায়মুক্তি (রক্ষাকবচ) রয়েছে। ফৌজদারি অপরাধ বা অন্য বিষয়ে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করা যায় না। এর বাইরে কেউ যদি কিছু বলেন, সে স্বাধীনতা তাঁদের আছে।’’ প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি হিসাবে সংবিধান অনুযায়ী সমস্ত সুযোগসুবিধা সাহাবুদ্দিন পাবেন বলেও জানিয়েছেন বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।






