পোবনিউজ২৪, ঢাকা ১৬ মার্চ : আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী দলীয় ব্যক্তিকে স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি করার সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন গণস্বাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী। এর ব্যত্যয় হলে পুনরায় আদালতে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে সোমবার নাগরিক প্লাটফর্ম আয়োজিত ‘নির্বাচনী ইশতেহারের আলোকে আগামী দিনের শিক্ষা খাত: নতুন চিন্তা, নতুন কাঠামো ও নতুন পদক্ষেপ’ শীর্ষক সংলাপে এসব কথা বলেন রাশেদা কে চৌধুরী। এ সময় মঞ্চে ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। পরে এ বিষয়ে তিনি জবাব দেন। প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যের মাঝে বিষয়টি নিয়ে ফের প্রশ্ন তোলেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মানীয় ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য।
রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, ‘বলা হয়েছে, এডুকেশন এজ অ্যা পলিটিক্যাল এজেন্ডা। অবশ্যই রাজনৈতিক এজেন্ডা তবে এটি যেন দলীয় এজেন্ডা না হয়। পার্টির এজেন্ডা না হয়। বিভিন্ন জায়গায় বলা হচ্ছে স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির যোগ্যতা কমানো হবে। আমরা তো সিঁদুরে মেঘ দেখলেই ডরাই। সেজন্য বলছি সেখানে যেন রাজনৈতিক মনোনয়ন দেয়া না হয়। আমি স্মরণ করিয়ে দিতে চাই ২০১৭ সালের হাইকোর্টের একটি রিটের একটি রুলিং আপিল বিভাগ আপহোল্ড করেছেন। আদালত বলেছেন, কোনো দলীয় কাউকে কোনো স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি করা যাবে না। আপনারা (প্রতিমন্ত্রীকে লক্ষ্য করে) যদি দেন আমি আবার আদালতে গিয়ে রিট করব। শিক্ষাকে রাজনীনিকরণ করতে দেয়া যাবে না।’
তিনি আরো বলেন, ‘সংবিধান নিয়ে অনেক কথা হচ্ছে কিন্তু শিক্ষাকে নাগরিক অধিকার হিসেব এখনো সংবিধানে স্বীকৃতি পায়নি। এটা রাষ্ট্রের দায়িত্ব হিসেবে সংবিধান স্বীকৃত।’
পরে শিক্ষা খাত নিয়ে বিভিন্ন বিষয়ে তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। একপর্যায়ে রাশেদা কে চৌধুরীর প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ‘ঢাকা শহর থেকে শুরু করে গ্রাম-মহল্লা যেখানেই যান না কেন, দেখবেন ওই এলাকার মুরুব্বিরা কোনো না কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে কানেকটেড। তাহলে তো কোনো মুরুব্বি পাওয়া যাবে না।’
প্রতিমন্ত্রীর এই বক্তব্যের পর অনুষ্ঠানের সভাপতি ও বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মানীয় ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, ‘কানেকটেড বিষয় না। দেখতে হবে তিনি দলীয় পদে আছেন কিনা। থাকলে এখানে প্রশ্ন থাকবে।’
ববি হাজ্জাজ বলেন, গণমাধ্যমে বিভিন্ন খবর এসেছে। তবে সেগুলো এখনো বাস্তব না। আমরা এখানে একটি নীতি তৈরিতে কাজ করছি। ঈদের পর আমরা স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে বসব। তারপর সিদ্ধান্ত হবে।






