দেবুল কুমার দাস, বেনাপোল ২৫ ফেব্রুয়ারি : অবশেষে দীর্ঘ চার মাস পর বুধবার ভারতে গেল সুপারির ১৭৬টি ট্রাক। ভারতীয় কর্তৃপক্ষের ছাড়পত্র পাওয়ার পর বেনাপোল বন্দরে আটকে থাকা রফতানিমুখী সুপারির ১৭৬টি ট্রাক ভারতে রফতানি করা হয়।
ভারত থেকে মান পরীক্ষার রিপোর্ট না দেওয়ায় এসব সুপারিবাহী ট্রাক যেতে পারেনি। দীর্ঘ চার মাস এসব ট্রাক ভর্তি সুপারি বেনাপোল বন্দরে পড়ে ছিল। বর্তমানে সে সব সুপারির ট্রাক আসছে সেগুলো মান পরীক্ষার রিপোর্ট নিয়েই ভারতে রফতানি হচ্ছে।
এদিকে জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষে বাণিজ্যে প্রতিবন্ধকতা কাটতে শুরু করায় আমদানি ও রফতানিতে গতি ফিরতে শুরু করেছে। গত বছরের ৫ আগস্ট দেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতে আশ্রয় নেওয়ার ঘটনায় দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কে টানাপোড়েন সৃষ্টি হয় এবং বাণিজ্যে প্রতিবন্ধকতা দেখা দেয়।
বাণিজ্য সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রতিবছর ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে প্রায় ১৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য আমদানি এবং দুই বিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য রফতানি হয়। রফতানি পণ্যের মধ্যে বড় একটি অংশ সুপারি। বাংলাদেশি সুপারির গুণগত মান ভালো হওয়ায় ভারতে এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। তথ্য অনুযায়ী, প্রতিবছর প্রায় ৭০০ কোটি টাকার সুপারি ভারতে রফতানি হয়।
সুপারি রফতানির ক্ষেত্রে ভারত থেকে মান পরীক্ষার রিপোর্ট সংগ্রহ বাধ্যতামূলক। তবে গত ৪ মাস ধরে ভারতীয় কাস্টমস রিপোর্ট সরবরাহ না করায় বেনাপোল বন্দরে ভারতে প্রবেশের অপেক্ষায় ১৭৬টি রফতানিমুখী সুপারির ট্রাক আটকা পড়ে। দুই দেশের ব্যবসায়ীরা বিভিন্নভাবে চেষ্টা করেও সমাধান আনতে পারেননি। বরং স্থলপথে পাট, পাটজাত পণ্য, গার্মেন্টসসহ গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি পণ্যের রফতানি বন্ধ হয়ে যায়।
তবে ব্যবসায়ীদের ধারণা ছিল, দেশে গণতান্ত্রিক সরকার ক্ষমতায় এলে এসব প্রতিবন্ধকতা কাটবে। অবশেষে নির্বাচনের পর একের পর এক নিষেধাজ্ঞা ও শর্ত শিথিল হওয়ায় আমদানি-রফতানি বাণিজ্য স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। গত ১৫ ফেব্রুয়ারি গম ও চিনি রফতানির ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয় ভারত এবং গত রোববার সুপারির মান পরীক্ষার ছাড়পত্র দেওয়ায় আটকে থাকা সুপারি রফতানি শুরু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য পণ্যের ওপরও নিষেধাজ্ঞা ও শর্ত উঠে যাবে বলে মনে করছেন দুই দেশের বাণিজ্য সংশ্লিষ্টরা।
সুপারিবাহী ট্রাকচালকরা জানান, ভারত থেকে মান পরীক্ষার ছাড়পত্র না দেওয়ায় ৪ মাস ধরে সুপারি নিয়ে ভারতে ঢুকতে পারেননি। সোম ও মঙ্গলবার সুপারির ট্রাক নিয়ে ভারতে যেতে পারছেন।
বেনাপোল আমদানি-রফতানিকার সাথে সংশ্লিষ্টরা জানান।সুপারি রফতানি বন্ধ থাকায় ব্যবসায়ীরা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছিলেন। ১৭৬টি ট্রাকে প্রতিদিন প্রায় ৫ লাখ টাকা অর্থদন্ড গুনতে হয়েছে। ভোটের পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হচ্ছে। আশা করছি, অন্যান্য পণ্যের ওপরও নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হবে।
সুপারি রফতানির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বেনাপোল বন্দরের উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্রের উপপরিচালক আবু তালহা জানান, ভারত ছাড়পত্র দেওয়ায় বেনাপোল বন্দরে আটকে থাকা ১৭৬টি সুপারির ট্রাক সোমবার থেকে বুধবার পর্যন্ত সব ট্রাক ভারতে প্রবেশ করেছে। নতুন করে যে সব সুপারির ট্রাক বেনাপোল বন্দরে আসছে সেগুলো মান পরীক্ষার রিপোর্ট নিয়েই ভারতে প্রবেশ করছে। রফতানির বিষয়ে কোন সমস্যার কোন অভিযোগ সংশ্লিস্ট মহল থেকে পাওয়া যায়নি বলে জানান তিনি ।






