পোবনিউজ২৪, ঢাকা ১১ জুলাই ২০২৬ : শিক্ষা, গবেষণা, বিজ্ঞান ও জ্বালানি খাতে বাংলাদেশ ও রাশিয়ার দীর্ঘদিনের সহযোগিতা নতুন মাত্রা পেয়েছে। স্বাধীনতার পর থেকে দুই দেশের সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলোর মধ্যে রয়েছে উচ্চশিক্ষায় বৃত্তি প্রদান, প্রযুক্তিগত জ্ঞান বিনিময় এবং অবকাঠামো উন্নয়নে অংশীদারিত্ব। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব উদ্যোগ বাংলাদেশের দক্ষ মানবসম্পদ গঠন এবং জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
প্রতি বছর রাশিয়া সরকারের বিভিন্ন শিক্ষাবৃত্তি কর্মসূচির আওতায় শতাধিক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী দেশটির বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পাচ্ছেন। চিকিৎসাবিজ্ঞান, প্রকৌশল, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি, মহাকাশ বিজ্ঞান, পারমাণবিক প্রযুক্তি এবং মৌলিক বিজ্ঞানসহ নানা বিষয়ে স্নাতক, স্নাতকোত্তর ও গবেষণার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। অনেক শিক্ষার্থী দেশে ফিরে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা সংস্থায় দক্ষতার সঙ্গে কাজ করছেন।
শিক্ষাবিদদের মতে, রাশিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আধুনিক গবেষণাগার, বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষা এবং আন্তর্জাতিক মানের গবেষণার পরিবেশ বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিচ্ছে। ফলে দুই দেশের শিক্ষা ও গবেষণা সহযোগিতা আরও সুদৃঢ় হচ্ছে।
বাংলাদেশ–রাশিয়া সহযোগিতার সবচেয়ে বড় প্রকল্পগুলোর একটি হলো পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। রাশিয়ার প্রযুক্তিগত ও আর্থিক সহযোগিতায় বাস্তবায়িত এই প্রকল্পটি দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে নির্মিত হয়েছে।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে মোট ২,৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হবে। ২০২৬ সালের আগস্ট মাসের শেষ নাগাদ প্রথম ইউনিট থেকে পরীক্ষামূলকভাবে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে। এরপর পর্যায়ক্রমে উৎপাদন বাড়িয়ে ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে প্রথম ইউনিট থেকে পূর্ণাঙ্গ ১,২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রকল্পটির দুটি ইউনিট পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হলে জাতীয় গ্রিডে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বিদ্যুৎ যুক্ত হবে, যা দীর্ঘমেয়াদে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও শিল্পায়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা।
বিশ্লেষকদের মতে, শিক্ষা ও গবেষণায় বিনিয়োগের পাশাপাশি জ্বালানি অবকাঠামো উন্নয়নে এ ধরনের সহযোগিতা বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তারা মনে করেন, ভবিষ্যতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, তথ্যপ্রযুক্তি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, চিকিৎসা গবেষণা এবং উচ্চপ্রযুক্তি খাতেও বাংলাদেশ ও রাশিয়ার যৌথ উদ্যোগ আরও সম্প্রসারিত হতে পারে।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের ভাষ্য, পারস্পরিক স্বার্থ, শিক্ষা বিনিময় এবং প্রযুক্তিগত সহযোগিতার ভিত্তিতে বাংলাদেশ–রাশিয়া সম্পর্ক আগামী দিনগুলোতে আরও গভীর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। উচ্চশিক্ষা, গবেষণা এবং জ্বালানি উন্নয়নে এই অংশীদারিত্ব দেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রাকে আরও গতিশীল করতে সহায়ক হবে বলে তারা মনে করেন।
সম্প্রতি মস্কোতে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের মস্কো বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা হয়েছে।
সুতরাং দুই দেশের সম্পর্ক আরও উচ্চমাত্রায় সম্প্রসারিত হবে বলে আশা করছেন কুটনৈতিক বিশ্লেষকগণ।






