পোবনিউজ২৪ ঢাকা ৬ জুলাই ২০২৬ : দুই বছর পর বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ভারতের টুরিস্ট ভিসা পুনরায় চালু হতেই রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন ভিসা আবেদনকেন্দ্রে বেড়েছে আবেদনকারীদের ভিড়। চিকিৎসা, পর্যটন, ব্যবসা, শিক্ষা, ধর্মীয় ভ্রমণ কিংবা আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে সাক্ষাতের উদ্দেশ্যে প্রতিদিন শত শত মানুষ আবেদন করছেন। তবে এই ভিড়ের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে একটি বিষয়—যাঁরা এতদিন রাজনৈতিক বক্তব্যে ভারতবিরোধিতাকে জোরালোভাবে তুলে ধরেছেন, তাঁদের একটি অংশও এখন ভারতের টুরিস্ট ভিসার জন্য আবেদন করছেন এবং নিয়ম অনুযায়ী ভিসা পাচ্ছেন।
ভিসা আবেদনকেন্দ্র ঘুরে, আবেদনকারী, ভ্রমণসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতামত পর্যালোচনা করে দেখা যায়, রাজনৈতিক বক্তব্য আর ব্যক্তিগত বাস্তবতা অনেক ক্ষেত্রেই এক নয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভারতবিরোধী বক্তব্য দিলেও চিকিৎসার জন্য, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করতে, ব্যবসায়িক কাজে কিংবা অবকাশযাপনের উদ্দেশ্যে ভারতকেই বেছে নিচ্ছেন অনেকে। ফলে প্রশ্ন উঠছে—রাজনীতির ভাষ্য আর বাস্তব জীবনের প্রয়োজনের মধ্যে ব্যবধান কতটা?
বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসে ভারতের ভূমিকা অনস্বীকার্য। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে ভারত সরকার, ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনী এবং সে দেশের সাধারণ মানুষ বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধা ও শরণার্থীদের পাশে দাঁড়িয়েছিল। ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে। সেই ইতিহাস দুই দেশের সম্পর্কের ভিত্তি নির্মাণ করেছে।
স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরও বাংলাদেশের মানুষের কাছে ভারত অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী রাষ্ট্র। চিকিৎসা, উচ্চশিক্ষা, ব্যবসা, কেনাকাটা, পর্যটন ও সাংস্কৃতিক যোগাযোগের কারণে প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি ভারত ভ্রমণ করেন। দুই বছর টুরিস্ট ভিসা সীমিত থাকার কারণে সেই যাতায়াতে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছিল। নতুন করে ভিসা চালু হওয়ার পর আবারও সেই চিত্র ফিরে আসছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর রাজনৈতিক অবস্থান এবং ব্যক্তিগত প্রয়োজনকে এক করে দেখা উচিত নয়। তবে প্রকাশ্যে ভারতবিরোধী বক্তব্য দেওয়ার পর ব্যক্তিগত প্রয়োজনে একই দেশে ভ্রমণের আগ্রহ রাজনৈতিক অবস্থানের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে জনপরিসরে প্রশ্ন তৈরি করতেই পারে।
ভারতের টুরিস্ট ভিসা পুনরায় চালু হওয়ার পর তাই শুধু সীমান্ত পারাপারের সুযোগই বাড়েনি; বরং বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতি, জনমত এবং বাস্তবতার মধ্যকার সম্পর্কও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। মুখের রাজনৈতিক বক্তব্যের বাইরে সাধারণ মানুষের সিদ্ধান্ত যে শেষ পর্যন্ত বাস্তব প্রয়োজনেই নির্ধারিত হয়, বর্তমান পরিস্থিতি যেন আবারও সেই বার্তাই দিচ্ছে।
উল্লেখ্য, ঢাকায় ভারতে নতুন হাই কমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী ২৮ জুন থেকে টুরিস্টসহ সকল ভিসা উন্মুক্ত করে দিয়েছেন। প্রতিদিন ভিসা প্রার্থীদের দীর্ঘ সারি,
ভিড়ে হিমশিম খাচেছন।
সরেজমিনে রাজধানীর যমুনা ফিউচার পার্কে অবস্থিত ভারতীয় ভিসাকেন্দ্রে (আইভ্যাক) আবেদনকারীদের দীর্ঘ সারি ও তীব্র ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। সকাল থেকেই শত শত মানুষ হাতে আবেদনপত্র ও পাসপোর্ট নিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছেন। তবে ভিসাকেন্দ্রের ভেতরের সেবা নিয়ে বড় কোনো অভিযোগ না থাকলেও, অনলাইনে আবেদনের নির্দিষ্ট তারিখ ও সময়ের অ্যাপয়েন্টমেন্ট বা ‘স্লট’ পাওয়া নিয়ে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগীরা। স্লট পেতে সাধারণ মানুষকে বড় ধরনের ভোগান্তির পাশাপাশি অতিরিক্ত অর্থ ব্যয়ের শিকার হতে হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সোমবার যমুনা ফিউচার পার্কের ভারতীয় ভিসা সেন্টারে গিয়ে দেখা যায়, নতুন আবেদন জমা দেওয়া, পাসপোর্ট সংগ্রহ এবং চিকিৎসা ও ভ্রমণের জন্য কাগজপত্র জমা দিতে আসা মানুষের উপচে পড়া ভিড়। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রতিটি সেবার লাইনে মানুষের সংখ্যা আরও বাড়তে থাকে।






